বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিপিং: রুট, কাগজপত্র ও শুল্ক
হালনাগাদ
এই গাইড বাংলাদেশের প্রস্তুতকারক, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও ব্র্যান্ডের জন্য, যাঁরা মার্কিন ক্রেতা, Amazon বা নিজেদের মার্কিন গ্রাহকের কাছে বাণিজ্যিক চালান পাঠান। এতে আছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে রুট, বাংলাদেশে রপ্তানির আনুষ্ঠানিকতা, অক্টোবর 2026 পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক কীভাবে হিসাব হয়, আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) রপ্তানিকারকদের জন্য আলাদা নিয়মগুলোও সংক্ষেপে আছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিপিং: এক নজরে
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক চালান পাঠাতে দুটি কাস্টমস ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশে পণ্য রওনা হওয়ার আগে EXP ফরম ও কাস্টমসের বিল অব এক্সপোর্ট লাগে। যুক্তরাষ্ট্রে একজন রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক (Importer of Record) এন্ট্রি দাখিল করেন, শুল্ক পরিশোধ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম মেনে চলেন। এর মাঝখানে পরিবহনের সিদ্ধান্ত: সমুদ্রপথ না আকাশপথ, কোন ট্রান্সশিপমেন্ট হাব, পূর্ণ কন্টেইনার না আংশিক।
খরচ ও সময়ের বড় সিদ্ধান্তগুলো শুরুতেই নিতে হয়: পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কোন বন্দরে নামবে, রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক কে হবেন, পণ্যের HTS শ্রেণিবিন্যাস কী, এবং 2026 সালে বাংলাদেশি উৎপত্তির পণ্যে কোন শুল্ক প্রযোজ্য। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যোগ হয় লেবেলিং ও তুলার উৎস প্রমাণের প্রশ্ন। নিচের অংশগুলো সেই ক্রমেই সাজানো, যে ক্রমে একটি চালান এগুলোর মুখোমুখি হয়।
- আপনি প্রস্তুতি HS কোড, উৎপত্তি, ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্ট
- আপনি বা আপনার এজেন্ট বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি EXP ফরম, বিল অব এক্সপোর্ট, প্রয়োজনে উৎপত্তি সনদ
- ক্যারিয়ার ও আমদানিকারক সমুদ্র বা আকাশপথ সমুদ্রপথে লোডিংয়ের আগে ISF
- রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক মার্কিন এন্ট্রি এন্ট্রি দাখিল, শুল্ক পরিশোধ, সংস্থার যাচাই
- মার্কিন পার্টনার ডেলিভারি পণ্য গ্রহণ, প্রস্তুতি ও পরবর্তী ডেলিভারি
বাংলাদেশ থেকে বন্দর, বিমানবন্দর ও রুট
সমুদ্রপথ
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, আর যুক্তরাষ্ট্রগামী কন্টেইনার সাধারণত এখান থেকেই রওনা হয়। তবে চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি কন্টেইনার সার্ভিস নেই বলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। 2022 সালের একটি প্রতিবেদনে (The Business Standard) বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রায় 40% কার্গো ফিডার জাহাজে কলম্বো হয়ে এবং বাকিটা সিঙ্গাপুর, পোর্ট ক্লাং ও তানজুং পেলেপাস হয়ে মূল জাহাজে ওঠে। সেখান থেকে মূল জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগর পার হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ও লং বিচে পৌঁছায়। উদাহরণ হিসেবে, Ocean Network Express (ONE)-এর 2026 সালের নেটওয়ার্কে সিঙ্গাপুর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস/লং বিচগামী একাধিক ট্রান্সপ্যাসিফিক সার্ভিস আছে, কিন্তু তার কোনোটিই চট্টগ্রামে ভেড়ে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যাওয়া কার্গো বর্তমানে সাধারণত উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope) ঘুরে যায়, সুয়েজ খাল দিয়ে নয়; ONE জানিয়েছে তাদের 2026 সালের রোটেশন এই রুটের ভিত্তিতেই তৈরি। প্রতিটি রুটে ট্রানজিট সময়, খরচ ও হস্তান্তরের সংখ্যা আলাদা, আর সময়সূচি ঘন ঘন বদলায়। ক্যারিয়াররা অক্টোবর 2026-এ কলম্বোর টার্মিনালগুলোতে জট ও বার্থিংয়ে বিলম্বের কথা জানিয়েছে, তাই কোনো গড় হিসাবের ওপর নির্ভর না করে বুকিংয়ের সময় বর্তমান বিকল্প ও নোটিশ দেখে নিন।
| রুট | যেভাবে কাজ করে | কখন বিবেচনা করবেন |
|---|---|---|
| সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া হয়ে পশ্চিম উপকূল | চট্টগ্রাম থেকে ফিডারে হাব বন্দর, সেখান থেকে ট্রান্সপ্যাসিফিক মূল জাহাজে লস অ্যাঞ্জেলেস বা লং বিচ | আপনার ক্রেতা বা স্টক পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে, অথবা পণ্য পশ্চিম উপকূলের ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে যাবে |
| কলম্বো হয়ে সমুদ্রপথ | ফিডারে কলম্বো, সেখানে মূল জাহাজে স্থানান্তর | রেট বা সময়সূচি ভালো হলে; হাবে জট ও বাড়তি হস্তান্তরের সময় হিসাবে রাখুন |
| পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপথ | হাব থেকে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আটলান্টিক উপকূলের বন্দরে | আপনার ক্রেতা বা ওয়্যারহাউস পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে |
| পশ্চিম উপকূল ও স্থলপথ | লস অ্যাঞ্জেলেস বা লং বিচে নেমে রেল বা ট্রাকে দেশের ভেতরে | একটি চালান কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ হবে, অথবা পশ্চিমে দ্রুত পৌঁছানো দরকার |
| এয়ার ফ্রেইট | সাধারণত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে, বিমানবন্দর থেকে বিমানবন্দর, তারপর ডেলিভারি | লঞ্চ স্টক, জরুরি রিঅর্ডার, নমুনা বা প্রতি কেজিতে বেশি মূল্যের পণ্য |
এয়ার ফ্রেইট ও এক্সপ্রেস
এয়ার ফ্রেইটের মূল্য নির্ধারিত হয় চার্জেবল ওজনে, তাই এটি ছোট আকারের, বেশি মূল্যের পণ্যে মানায়: প্রি-প্রোডাকশন স্যাম্পল, জরুরি রিঅর্ডার বা নতুন ব্র্যান্ডের প্রথম স্টক। কয়েকটি হালকা কার্টনের জন্য এক্সপ্রেস কুরিয়ার প্রায়ই সহজ, কারণ পিকআপ, ফ্লাইট ও ক্লিয়ারেন্স একই নেটওয়ার্কে হয়। প্রথম চালানে কুরিয়ার, এয়ার ও LCL-এর মধ্যে বেছে নিতে কন্টেইনার ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম 100টি পণ্য পাঠানোর গাইড দেখুন; বড় চালানের জন্য FCL বনাম LCL ব্যাখ্যা করে কখন পূর্ণ কন্টেইনার লাভজনক হয়।
পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) থেকে
পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারকদের জন্য কলকাতা বন্দর (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর) থেকে ফিডার রুট একটি বিকল্প। আরেকটি বিকল্প পশ্চিম ভারতের বন্দর: নাভা শেভা (JNPA) থেকে ONE-এর PS3 সার্ভিস এপ্রিল 2026 থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস/লং বিচে যায়। কোন রুট সস্তা বা দ্রুত, তা নির্ভর করে কারখানা থেকে বন্দরের দূরত্ব ও বর্তমান সময়সূচির ওপর।
কখন লস অ্যাঞ্জেলেস বা লং বিচে পাঠানো যুক্তিসঙ্গত
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাব থেকে মূল ট্রান্সপ্যাসিফিক সার্ভিসগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়, আর পূর্ব উপকূলের রুট এখন আফ্রিকা ঘুরে যায়। তাই বাংলাদেশি অনেক চালানের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেস ও লং বিচ স্বাভাবিক প্রবেশপথ, বিশেষ করে যখন:
- আপনার গ্রাহক পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলোতে। আপনার ক্রেতা, খুচরা পার্টনার বা অনলাইন গ্রাহক বেশিরভাগ ক্যালিফোর্নিয়া ও পশ্চিমে হলে পণ্য সেখানে নামালে পরে দেশজুড়ে ট্রাক বা রেলের খরচ এড়ানো যায়।
- Amazon আপনার ইনভেন্টরি পশ্চিমে পাঠায়। কোন ফুলফিলমেন্ট সেন্টার আপনার ইউনিট পাবে তা Amazon ঠিক করে, এবং আপনি কোন প্লেসমেন্ট বিকল্প বেছে নেন তাতে ফি বদলায়। আমাদের ইনবাউন্ড প্লেসমেন্ট ফি ও ক্যাপাসিটি সীমা গাইডে এটি ব্যাখ্যা করা আছে।
- আপনি কয়েকটি চ্যানেলের জন্য একটি মার্কিন স্টক পয়েন্ট চান। বন্দরের কাছের একটি ওয়্যারহাউস একটি চালান গ্রহণ করে তার একাংশ Amazon-এ, একাংশ খুচরা বিক্রেতার কাছে এবং একাংশ ই-কমার্স অর্ডারে পাঠাতে পারে।
দুই দিকের পুরো ডোর টু ডোর খরচ তুলনা করুন: পশ্চিম উপকূলে সমুদ্রপথ ও স্থলপথে বাকি পথ, বনাম উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে পূর্ব উপকূল। কন্টেইনার নামার পর বন্দর টার্মিনাল ও কন্টেইনারের চার্জও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে; আমাদের লস অ্যাঞ্জেলেস ও লং বিচে ড্রেয়েজ, ডেমারেজ ও ডিটেনশন গাইডে এগুলো আছে।
Abanro-র ওয়্যারহাউস ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে, লস অ্যাঞ্জেলেস ও লং বিচ বন্দরের কাছে। পশ্চিম উপকূল আপনার গ্রাহকদের জন্য ঠিক হলে আমরা বাংলাদেশে আপনার কারখানা বা ওয়্যারহাউস থেকে পণ্য পিকআপ করি, শিপ করি, মার্কিন কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সামলাই এবং এখানে পণ্য গ্রহণ করি, ফলে পুরো পথ একটিই পার্টনারের হাতে থাকে।
বাংলাদেশে রপ্তানির আনুষ্ঠানিকতা: ERC, EXP ফরম ও বিল অব এক্সপোর্ট
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টালে রপ্তানিকারক হওয়ার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি সাধারণ বাণিজ্যিক চালানের জন্য:
- রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ERC)। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (CCI&E) ERC দেয়। আবেদনের সঙ্গে লাগে বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের কপি, চেম্বারের সদস্যপদ, প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী অংশীদারি দলিল বা মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, এবং ফি জমার ট্রেজারি চালান।
- HS কোড। বাংলাদেশ কাস্টমসের ট্যারিফ অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস করুন। HS কোডের প্রথম ছয় অঙ্ক আন্তর্জাতিকভাবে এক, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের HTS নিজস্ব জাতীয় অঙ্ক ও শুল্কহার ঠিক করে, তাই দুই দেশের কোড শুরুতে মিললেও পরে আলাদা হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাংলাদেশ কাস্টমস তথ্য হাবে রপ্তানির সাধারণ কাগজপত্রের তালিকা আছে: ERC, EXP ফরম, কমার্শিয়াল ও প্রোফর্মা ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, রপ্তানি LC বা বিক্রয় চুক্তি, উৎপত্তি সনদ এবং বিল অব লেডিং বা এয়ার ওয়েবিল।
- EXP ফরম। বাংলাদেশ ব্যাংকের FE সার্কুলার নং 31 (31 জুলাই 2025) অনুযায়ী, ছাড় না থাকলে প্রতিটি রপ্তানি EXP ফরমে ঘোষণা করতে হয়। ফরমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন ব্যবস্থা OEMS-এ ইলেকট্রনিকভাবে জমা দেওয়া যায়, আর আপনার অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংক স্বাক্ষরিত হার্ড কপি পরে সত্যায়ন করে।
- বিল অব এক্সপোর্ট। এটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দলিল এবং কাস্টমস এটি সত্যায়ন করে। কাস্টমস-সত্যায়িত বিল অব এক্সপোর্ট EXP ফরমের হার্ড কপির সঙ্গে AD ব্যাংকে জমা দিতে হয়।
- উৎপত্তি সনদ (Certificate of Origin)। সনদ অগ্রাধিকারমূলক বা অ-অগ্রাধিকারমূলক হতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) GSP শাখা অগ্রাধিকারমূলক সনদ দেয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এর কোনো শুল্ক সুবিধা নেই: মার্কিন GSP কর্মসূচির মেয়াদ 1 জানুয়ারি 2021-এ শেষ হয়েছে এবং অক্টোবর 2026 পর্যন্ত নবায়ন হয়নি। EPB-র পাতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম এখনো থাকলেও মার্কিন GSP সনদ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মার্কিন ক্রেতা বা ব্যাংক চাইলে অ-অগ্রাধিকারমূলক উৎপত্তি সনদ দিন।
আপনার মার্কিন ক্রেতা যদি ফ্রেইট ঠিক করেন, তাহলে বাংলাদেশে রপ্তানির কাজ কে করবেন তা লিখিতভাবে ঠিক করুন। কিছু শর্তে ক্রেতার ফরওয়ার্ডার এটি করেন, অন্য শর্তে দায়িত্ব আপনার থাকে। আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে শিপিংয়ের Incoterms গাইড ব্যাখ্যা করে EXW, FCA, FOB, DAP ও DDP-তে এই কাজগুলো কীভাবে ভাগ হয়।
পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) থেকে রপ্তানি
ভারতের নিয়ম আলাদা। রপ্তানির জন্য বিদেশ বাণিজ্য মহাপরিচালকের দপ্তর (DGFT) থেকে IEC (Importer Exporter Code) লাগে, যা প্রতিষ্ঠানের PAN নম্বরের সমান। রপ্তানির ঘোষণা হলো ভারতীয় কাস্টমসে ইলেকট্রনিকভাবে দাখিল করা শিপিং বিল। বৈদেশিক বাণিজ্য নীতির সুবিধা নিতে সংশ্লিষ্ট এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের RCMC লাগে, আর অ-অগ্রাধিকারমূলক উৎপত্তি সনদ DGFT-র eCoO প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়া হয়। GST আইনে রপ্তানি শূন্য-হার সরবরাহ: LUT-এর অধীনে IGST ছাড়া রপ্তানি করা যায়, অথবা IGST দিয়ে পরে রিফান্ড নেওয়া যায়।
কখন পণ্য বাংলাদেশি উৎপত্তির বলে গণ্য হয়
মার্কিন শুল্ক নির্ভর করে উৎপত্তি দেশের ওপর, কোন দেশ থেকে পাঠানো হলো তার ওপর নয়। বাংলাদেশে বাংলাদেশি উপকরণে তৈরি পণ্য বাংলাদেশি উৎপত্তির। আমদানি করা উপকরণে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো, বাংলাদেশে করা কাজ পণ্যটিকে একটি নতুন ও ভিন্ন পণ্যে রূপান্তর করলে (substantial transformation) উৎপত্তি বাংলাদেশ হয়। শুধু রিপ্যাকিং, রিলেবেলিং, কিট তৈরি বা সামান্য সংযোজন সাধারণত উৎপত্তি বদলায় না। আমদানি করা কাপড় বা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাকের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে পণ্য পাঠানোর আগে আপনার HTS কোড ধরে CBP-র উৎপত্তি নিয়ম যাচাই করুন।
2026 সালে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন অতিরিক্ত শুল্ক এখন উৎপত্তি দেশভেদে আলাদা: বাংলাদেশি পণ্যে 10%, চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের পণ্যে 12.5%। চীনে তৈরি পণ্য বাংলাদেশের ওয়্যারহাউস হয়ে গেলেও চীনা উৎপত্তিরই থাকে এবং চীনের শুল্ক বহন করে, যার মধ্যে 2018 সালের Section 301 শুল্কও আছে। এমন পণ্যকে বাংলাদেশি উৎপত্তি বলে ঘোষণা করা মিথ্যা ঘোষণা, রুট যা-ই হোক। CBP সেপ্টেম্বর 2026-এ সাপ্লাই চেইনের দৃশ্যমানতা নিয়ে একটি অগ্রিম প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করেছে, যাতে রপ্তানিকারক দেশের কাস্টমসে দাখিল করা কাগজপত্রসহ আরও তথ্য চাওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
তুলা, সুতা ও UFLPA
তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে উৎপত্তির পাশাপাশি কাঁচামালের উৎসও যাচাই হয়। উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট (UFLPA) অনুযায়ী, চীনের শিনজিয়াংয়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে উৎপাদিত বা তৈরি উপকরণযুক্ত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া হয়। তাই বাংলাদেশে সেলাই করা পোশাকেও আমদানি করা তুলা, সুতা বা কাপড়ের উৎস দেখাতে হতে পারে। তুলার উৎস থেকে স্পিনিং মিল, কাপড়ের মিল, কাটিং ও সেলাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের ক্রয় ও উৎপাদনের কাগজপত্র এক জায়গায় রাখুন, যাতে প্রশ্ন উঠলে দ্রুত দেখাতে পারেন।
দুটি ব্যবহারিক বিষয় মনে রাখুন। প্রথমত, কমার্শিয়াল ইনভয়েসে প্রতিটি পণ্যের উৎপত্তি দেশ উল্লেখ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি পণ্যে, বা অনুমোদিত ক্ষেত্রে তার মোড়কে, সাধারণত উৎপত্তি দেশের ইংরেজি নাম মার্কিং করতে হয় (যেমন "Made in Bangladesh"), এমন জায়গায় যেখানে মার্কিন ক্রেতা দেখতে পান। কিছু ক্রেতা বা ব্যাংক উৎপত্তি সনদও চায়; পণ্য পাঠানোর আগে আপনার ক্রেতার কী দরকার তা জেনে নিন।
অক্টোবর 2026 পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক
বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক সর্বোচ্চ তিনটি স্তরে তৈরি হয়। মার্কিন মূল্য ঠিক করার আগে আপনার HTS কোডের জন্য প্রতিটি স্তর যাচাই করুন।
- নিয়মিত শুল্কহার। প্রতিটি পণ্যের হার যুক্তরাষ্ট্রের হারমোনাইজড ট্যারিফ শিডিউলে (HTSUS) দেওয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই এবং মার্কিন GSP নবায়ন হয়নি, তাই বাংলাদেশি পণ্য সাধারণত তার শ্রেণিবিন্যাসের সাধারণ হার দেয়। কিছু হার শূন্য, কিছু শুল্কমূল্যের শতাংশ, কিছু প্রতি ইউনিট নির্দিষ্ট অঙ্ক। পোশাকে কাপড়ের উপাদান ও ধরন বদলালে কোড ও হার বদলাতে পারে, তাই প্রতিটি স্টাইল আলাদাভাবে যাচাই করুন।
- বাংলাদেশি পণ্যে Section 301 শুল্ক। 24 জুলাই 2026, মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত 12:01 থেকে বাংলাদেশি উৎপত্তির পণ্যে Section 301-এর অধীনে অতিরিক্ত 10% শুল্ক প্রযোজ্য (USTR নোটিশ, 28 জুলাই 2026)। এটি HTS শিরোনাম 9903.05.26-এর অধীনে আদায় হয়, যার হার লেখা আছে "প্রযোজ্য সাবহেডিংয়ের শুল্ক + 10%"। অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত (MFN) শুল্কের ওপর যোগ হয়; EU বা জাপানের মতো নিয়মিত হারসহ মোট হার হিসেবে নয়। অ্যান্টি-ডাম্পিং ও কাউন্টারভেইলিং শুল্ক থাকলে সেগুলোও আলাদাভাবে প্রযোজ্য থাকে। ছাড়ের তালিকায় আছে ট্রানজিটে থাকা পণ্য (লোড হয়েছে 24 জুলাইয়ের আগে, এন্ট্রি 28 জুলাই 2026-এর আগে), বেসামরিক বিমান ও যন্ত্রাংশ, ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পণ্য, অনুদান, তথ্যসামগ্রী, এবং Section 232-এর পণ্যগোষ্ঠী: অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, তামা ও এগুলোর তৈরি পণ্য, যানবাহন ও যন্ত্রাংশ, কাঠের পণ্য ও সেমিকন্ডাক্টর। USTR-এর ফ্যাক্ট শিটও Section 232 শুল্কের আওতাভুক্ত পণ্যকে এর বাইরে রাখে। বাংলাদেশের জন্য দুটি দেশভিত্তিক ছাড়ের শিরোনামও আছে (9903.06.12 ও 9903.06.13, U.S. note 52(j)(9)); কোন পণ্য এর আওতায় পড়ে তা নোটিশের অ্যানেক্সে দেখে নিন।
- Section 232 খাতভিত্তিক শুল্ক। স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, গাড়ি ও যন্ত্রাংশ, ট্রাক, কাঠ ও কিছু কাঠের আসবাব, ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি শ্রেণির নিজস্ব Section 232 ব্যবস্থা আছে। এসব পণ্য Section 301 শুল্কের বাইরে থাকে, কিন্তু Section 232 শুল্ক দেয়। 2026 সালে বাণিজ্যিক বিমান ও জেট ইঞ্জিনের মতো নতুন ব্যবস্থাও এসেছে, তাই ধাতব পণ্য বা ধাতব অংশযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি চালানের আগে বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করুন।
তৈরি পোশাক ও ট্যারিফ-রেট কোটা
একই নোটিশে USTR জানিয়েছে, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য "সম্ভব হলে" বস্ত্র ও পোশাকে ট্যারিফ-রেট কোটা (TRQ) চালু করা হবে, প্রাথমিকভাবে 3 বছরের জন্য। একটি কোটা হবে এসব দেশের মার্কিন বস্ত্র উপকরণ আমদানির সঙ্গে যুক্ত, আরেকটি মার্কিন তুলা আমদানির সঙ্গে। কোটা চালু না হওয়া পর্যন্ত এসব বস্ত্র ও পোশাকে 10% Section 301 শুল্ক প্রযোজ্য। নোটিশে কোটার পরিমাণ বা শুরুর তারিখ নেই, তাই কোটার ওপর ভিত্তি করে মূল্য ঠিক করবেন না; সর্বশেষ USTR নোটিশ দেখুন। তবে আপনি মার্কিন তুলা বা মার্কিন কাপড় ব্যবহার করলে তার ক্রয় ও ব্যবহারের কাগজপত্র এখনই গুছিয়ে রাখুন।
অক্টোবর 2026 পর্যন্ত: 9 ফেব্রুয়ারি 2026-এ স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে 19% "পারস্পরিক" শুল্কহারের কথা ছিল, যা IEEPA-ভিত্তিক Executive Order 14257 থেকে এসেছিল (USTR ফ্যাক্ট শিট)। 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে IEEPA প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না; সেই শুল্কগুলো শেষ হয়েছে এবং ফেরত CBP-র মাধ্যমে প্রক্রিয়া হচ্ছে। এরপর 24 ফেব্রুয়ারি থেকে 24 জুলাই 2026 পর্যন্ত Section 122-এর অধীনে অস্থায়ী 10% সারচার্জ চলেছে। 24 জুলাই 2026 থেকে ছাড় না থাকলে বাংলাদেশি পণ্যে 10% Section 301 শুল্ক প্রযোজ্য, আর নির্দিষ্ট পণ্যে Section 232 শুল্ক। তাই 19% বা 2025 সালের হার এখন আর প্রযোজ্য নয়। হার ও ছাড় দ্রুত বদলাতে পারে, প্রতিটি চালানের আগে HTS ও সর্বশেষ নোটিশ দেখুন।
শুল্কের পাশাপাশি বেশিরভাগ ফরমাল এন্ট্রিতে মার্চেন্ডাইজ প্রসেসিং ফি (MPF) এবং সমুদ্রপথের কার্গোতে হারবার মেইনটেন্যান্স ফি (HMF) লাগে। কম মূল্য মানেই শুল্কমুক্ত নয়: 29 আগস্ট 2025 থেকে সব দেশের জন্য মার্কিন de minimis ছাড় স্থগিত। আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির খরচ গাইডে প্রতিটি ফি এবং ল্যান্ডেড কস্ট (পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত মোট খরচ) হিসাবের পদ্ধতি আছে।
পশ্চিমবঙ্গ (ভারত): ভারতীয় উৎপত্তির পণ্যেও 24 জুলাই 2026 থেকে নিয়মিত শুল্কের ওপর অতিরিক্ত 10% Section 301 শুল্ক প্রযোজ্য, HTS শিরোনাম 9903.05.44-এর অধীনে। ভারতের ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ ছাড়গুলো প্রযোজ্য; বাংলাদেশের মতো দেশভিত্তিক ছাড়ের শিরোনাম বা বস্ত্রের TRQ পরিকল্পনা ভারতের জন্য নেই। 2025 ও 2026 সালের শুরুর দিকের 50%, 25% বা 18% হার IEEPA-ভিত্তিক ছিল এবং এখন প্রযোজ্য নয়। ভারতীয় হিমায়িত চিংড়িতে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও কাউন্টারভেইলিং শুল্কের আদেশ বহাল আছে।
উদাহরণ (কাল্পনিক)। গাজীপুরের একটি নিটওয়্যার কারখানা একটি মার্কিন ব্র্যান্ডের জন্য টি-শার্টের একটি চালান পাঠায়, যার শুল্কমূল্য $20,000। শুধু উদাহরণের জন্য ধরে নিন নিয়মিত HTS শুল্কহার 5% এবং Section 301 শুল্কে কোনো ছাড় নেই।
নিয়মিত শুল্ক: $20,000 × 5% = $1,000। Section 301 শুল্ক: $20,000 × 10% = $2,000। মোট শুল্ক: $3,000, MPF, HMF, ফ্রেইট ও ক্লিয়ারেন্স খরচ ছাড়া। প্রকৃত হার নির্ভর করে শ্রেণিবিন্যাসের ওপর, তাই কারখানাটি মার্কিন মূল্য বা DDP কোটেশন দেওয়ার আগে তা নিশ্চিত করে।
পণ্য বাংলাদেশ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ধাপ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি বাণিজ্যিক চালানের একজন রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক লাগে: এন্ট্রি, শ্রেণিবিন্যাস, ঘোষিত মূল্য ও শুল্কের দায় যাঁর। একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান নিজেই রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক হতে পারে, এবং সাধারণত একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাস্টমস ব্রোকার তার পক্ষে এন্ট্রি দাখিল করেন। বিকল্প হিসেবে আপনার মার্কিন ক্রেতাও রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক হতে পারেন।
- লোডিংয়ের আগে (শুধু সমুদ্রপথ): ইমপোর্টার সিকিউরিটি ফাইলিং (ISF, প্রচলিত নাম "10+2") যুক্তরাষ্ট্রগামী জাহাজে কার্গো লোড হওয়ার অন্তত 24 ঘণ্টা আগে দাখিল করতে হয়। ট্রান্সশিপমেন্টের রুটে এটি আরও আগে গুছিয়ে রাখুন, কারণ ফিডার থেকে মূল জাহাজে স্থানান্তরের সময়সূচি বদলাতে পারে।
- আমদানিকারকের পরিচয়: মার্কিন কর নম্বর নেই এমন বিদেশি আমদানিকারককে CBP Form 5106-এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ভৌত ঠিকানা দিতে হবে, কোনো কাস্টমস ব্রোকার, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, রেজিস্টার্ড এজেন্ট বা P.O. বক্সের ঠিকানা নয়। 18 সেপ্টেম্বর 2026 থেকে Form 5106-এর তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে CBP সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক নম্বর বাতিল করে।
- বন্ড ও এন্ট্রি: $2,500-এর বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক চালানে সাধারণত ফরমাল এন্ট্রি ও কাস্টমস বন্ড লাগে। এন্ট্রি পৌঁছানোর 15 ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে দিতে হয়, এবং সাধারণত পণ্য নামার আগেই দাখিল করা হয়।
- ছাড় ও পরিশোধ: CBP ও FDA-র মতো সংস্থা এন্ট্রি পর্যালোচনা করে, প্রয়োজনে পণ্য পরীক্ষা করে, তারপর ছাড় দেয়। আনুমানিক শুল্ক ও ফি এন্ট্রি সামারির সঙ্গে জমা দেওয়া হয়।
বিদেশি রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারকের নিয়মও কঠোর হচ্ছে। Executive Order 14411 (3 জুন 2026) বিদেশি আমদানিকারকের ওপর ইনফরমাল এন্ট্রি ও কন্টিনিউয়াস বন্ডের মতো বিষয়ে বিধিনিষেধের নির্দেশ দিয়েছে; অক্টোবর 2026 পর্যন্ত এগুলো নির্দেশিত হলেও এখনো কার্যকর হয়নি, তাই পাঠানোর আগে বর্তমান নিয়ম দেখে নিন। আপনার প্রতিষ্ঠানের মার্কিন সত্তা না থাকলে মার্কিন কোম্পানি ছাড়া Amazon USA-তে আমদানি ও বিক্রি গাইডে অনাবাসী রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারকের বিষয়টি আছে। যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স যেভাবে কাজ করে গাইডে প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত আছে। আপনার চালানের অংশ হিসেবে Abanro মার্কিন কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সামলায়, এবং যোগ্য ক্ষেত্রে Abanro রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক হিসেবে কাজ করতে পারে; এতে কী অন্তর্ভুক্ত তা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাতায় দেখুন।
খাদ্য, চিংড়ি, মসলা, পোশাক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পণ্য
কিছু বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুধু কাস্টমস এন্ট্রি যথেষ্ট নয়। এই ধাপগুলো পণ্য রওনা হওয়ার আগেই পরিকল্পনা করুন, কারণ নিবন্ধন বা প্রমাণ না থাকলে সাধারণত মার্কিন সীমান্তে পণ্য আটকে যায়, পথে থাকা অবস্থায় তা ঠিক করা যায় না।
- খাদ্য, হিমায়িত চিংড়ি ও মসলা: যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খাদ্য তৈরি, প্যাক বা সংরক্ষণ করে এমন প্রতিষ্ঠানকে FDA-তে নিবন্ধিত থাকতে হয়, প্রতিটি খাদ্য চালানে পৌঁছানোর আগে Prior Notice লাগে, একজন FSVP আমদানিকারক চিহ্নিত করতে হয় এবং লেবেল মার্কিন নিয়ম মানতে হয়। 2026 সালের খাদ্য প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নবায়নের সময়সীমা 31 ডিসেম্বর 2026-এ শেষ। FDA-র ইমপোর্ট অ্যালার্ট 16-124 (অননুমোদিত ওষুধ) ও 16-129 (নাইট্রোফিউরান)-এর রেড লিস্টে কয়েকটি বাংলাদেশি চিংড়ি রপ্তানিকারক আছে, আর 99-42-এ সীসার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের হলুদ। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরীক্ষা ছাড়াই আটক হতে পারে, তাই পাঠানোর আগে তালিকা দেখুন এবং অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করান। পুরো ক্রম জানতে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য আমদানির গাইড দেখুন।
- প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য: Modernization of Cosmetics Regulation Act (MoCRA) অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রসাধনী তৈরি বা প্রক্রিয়া করে এমন প্রতিষ্ঠানকে FDA-তে নিবন্ধন করতে হয়, এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রতিটি পণ্য তালিকাভুক্ত করতে হয়। আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রসাধনী আমদানি গাইডে চালানের দিকটি আছে।
- তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও অন্যান্য শ্রেণি: পোশাক ও গৃহস্থালি বস্ত্রে FTC-র লেবেল নিয়ম প্রযোজ্য: তন্তুর উপাদান, উৎপত্তি দেশ, এবং প্রস্তুতকারক বা ডিলারের নাম বা RN নম্বর। জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, শিশুদের পণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও ব্যাটারিযুক্ত পণ্যের নিজস্ব নিয়ম আছে। আমাদের বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারের সুযোগ গাইডে খাত অনুযায়ী প্রধান নিয়মগুলো আছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিপিংয়ের কাগজপত্রের চেকলিস্ট
- কমার্শিয়াল ইনভয়েস ইংরেজিতে: বিক্রেতা, ক্রেতা, রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক, প্রতিটি পণ্যের স্পষ্ট বর্ণনা (পণ্যটি কী এবং কী দিয়ে তৈরি, পোশাকে তন্তুর উপাদানসহ), পরিমাণ, একক মূল্য ও মুদ্রা, মোট মূল্য, উৎপত্তি দেশ এবং সম্মত Incoterms শর্ত।
- প্যাকিং লিস্ট কার্টন অনুযায়ী, SKU, পরিমাণ, ওজন ও মাপসহ, যা ইনভয়েসের সঙ্গে মেলে।
- বাংলাদেশের রপ্তানি কাগজপত্র: ERC, EXP ফরম, কাস্টমস-সত্যায়িত বিল অব এক্সপোর্ট, রপ্তানি LC বা বিক্রয় চুক্তি।
- পরিবহন দলিল: সমুদ্রপথে বিল অব লেডিং, আকাশপথে এয়ার ওয়েবিল।
- ISF তথ্য সমুদ্রপথের চালানে সময়মতো ISF দাখিলকারীর কাছে পাঠানো।
- মার্কিন আমদানিকারকের তথ্য: রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারক নম্বর (বিদেশি আমদানিকারকের জন্য CBP Form 5106), কাস্টমস বন্ড, এবং যে ব্রোকার এন্ট্রি দাখিল করবেন তাঁর সঙ্গে সরাসরি স্বাক্ষরিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।
- HTS শ্রেণিবিন্যাস প্রতিটি পণ্যের জন্য নিশ্চিত, এবং যে উৎপত্তি আপনি প্রমাণ করতে পারেন।
- তুলা ও কাপড়ের উৎসের কাগজপত্র পোশাক ও বস্ত্রের জন্য: সুতা ও কাপড়ের ক্রয়, মিল ও উৎপাদনের রেকর্ড, মার্কিন তুলা বা কাপড় ব্যবহার করলে তার প্রমাণ।
- প্রযোজ্য সংস্থার কাগজপত্র: খাদ্যের জন্য FDA নিবন্ধন নম্বর ও Prior Notice, প্রসাধনীর জন্য MoCRA নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি, নিয়ন্ত্রিত ভোক্তাপণ্যের পরীক্ষার সনদ।
- উৎপত্তি মার্কিং ও লেবেল প্রতিটি পণ্য বা খুচরা মোড়কে, পোশাকে FTC লেবেল, আর ক্রেতা চাইলে উৎপত্তি সনদ।
- পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঠালে: EXP ফরম ও বিল অব এক্সপোর্টের বদলে IEC, শিপিং বিল এবং প্রয়োজনে RCMC ও eCoO-র মাধ্যমে উৎপত্তি সনদ।
বাংলাদেশ থেকে শিপিংয়ে Abanro যেভাবে সাহায্য করে
Abanro আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের জন্য একটি ডোর টু ডোর লজিস্টিকস পার্টনার: বাংলাদেশে আপনার ওয়্যারহাউস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আপনার গন্তব্য পর্যন্ত একটিই পার্টনার। আমরা আপনার ওয়্যারহাউস থেকে পণ্য পিকআপ করি, সমুদ্র বা আকাশপথে আন্তর্জাতিক শিপিং-এর ব্যবস্থা করি, এবং চালানের অংশ হিসেবে মার্কিন কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সামলাই। বাংলাদেশে রপ্তানির আনুষ্ঠানিকতা, যেমন EXP ফরম ও বিল অব এক্সপোর্ট, পণ্য রওনা হওয়ার আগে সম্পন্ন থাকতে হবে; আপনার দিক থেকে আমাদের কী লাগবে তা আমরা জানিয়ে দিই।
অরেঞ্জ কাউন্টিতে পণ্য আপনার প্যাকিং লিস্টের সঙ্গে মিলিয়ে গ্রহণ ও পরিদর্শন করা হয় (প্যালেট গ্রহণ প্রতি প্যালেট $15 থেকে, কন্টেইনার আনলোডিং 20 ফুট / 40 ফুট $300 / $495 থেকে), তারপর Amazon FBA প্রস্তুতি (স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তুতি প্রতি ইউনিট $1.20 থেকে), সংরক্ষণ, অথবা Amazon, খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকের কাছে ফরওয়ার্ডিং। এগুলো শুরুর মূল্য; আমাদের মূল্য তালিকার পাতা দেখুন। আন্তর্জাতিক শিপিং ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের কোটেশন প্রতিটি চালানের জন্য আলাদাভাবে দেওয়া হয়।
আপনার পণ্যের তালিকা, বাংলাদেশে পিকআপের ঠিকানা ও যুক্তরাষ্ট্রে গন্তব্য পাঠান, আমরা আপনার সঙ্গে মিলে রুট, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও পণ্য গ্রহণের পরিকল্পনা করব।
আপনার বাংলাদেশি চালানের কোটেশন নিনএই গাইড সাধারণ তথ্য, আইনি বা কাস্টমস পরামর্শ নয়। শুল্কহার, ছাড় ও সংস্থার শর্ত বদলায়, তাই পাঠানোর আগে আপনার পণ্য ও চালানের জন্য সেগুলো নিশ্চিত করুন।
সূত্র ও আরও পড়ুন
- রপ্তানিকারক হওয়ার প্রক্রিয়া (Procedures to be an Exporter): ERC, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, উৎপত্তি সনদ ও বিল অব এক্সপোর্ট, বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টাল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
- FE সার্কুলার নং 31 (31 জুলাই 2025): রপ্তানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বিধি, EXP ফরম ও OEMS, বাংলাদেশ ব্যাংক
- রপ্তানির সাধারণ কাগজপত্র (General Documents for Export), বাংলাদেশ কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)
- নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগ: GSP শাখা ও উৎপত্তি সনদ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB)
- চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রুট ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাব নিয়ে প্রতিবেদন (5 অক্টোবর 2022), The Business Standard (ঢাকা)
- 2026 সালের ইস্ট-ওয়েস্ট সার্ভিস নেটওয়ার্ক: সিঙ্গাপুর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস/লং বিচ ও উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে পূর্ব উপকূল, Ocean Network Express (ONE)
- অপারেশনাল আপডেট, সপ্তাহ 43 (অক্টোবর 2026): কলম্বোর টার্মিনালে জট, Hapag-Lloyd
- ফ্যাক্ট শিট: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ফেব্রুয়ারি 2026), মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR)
- বিভিন্ন অর্থনীতির Section 301 তদন্তে গৃহীত পদক্ষেপের নোটিশ (91 FR 47318, 28 জুলাই 2026), মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR), Federal Register
- ফ্যাক্ট শিট: 60টি অর্থনীতির বিষয়ে USTR-এর Section 301 পদক্ষেপ (জুলাই 2026), মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR)
- CSMS #69326983 (23 জুলাই 2026): Section 301 শুল্কের HTS শিরোনাম, বাংলাদেশ 9903.05.26 ও ভারত 9903.05.44, মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (CBP)
- GSP কর্মসূচির মেয়াদ শেষ (1 জানুয়ারি 2021), মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR)
- যুক্তরাষ্ট্রের হারমোনাইজড ট্যারিফ শিডিউল (অনুসন্ধান), মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন (USITC)
- 19 CFR 134.11: উৎপত্তি দেশের মার্কিং বাধ্যতামূলক, ইলেকট্রনিক কোড অব ফেডারেল রেগুলেশনস (eCFR)
- উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট (UFLPA), মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (DHS)
- সাপ্লাই চেইনের দৃশ্যমানতার জন্য বাড়তি আমদানি তথ্য: অগ্রিম প্রস্তাবিত বিধি (91 FR 56408, 2 সেপ্টেম্বর 2026), মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (CBP), Federal Register
- ইমপোর্টার সিকিউরিটি ফাইলিং ও ক্যারিয়ারের অতিরিক্ত শর্ত (চূড়ান্ত বিধি, 25 নভেম্বর 2008), মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (CBP), Federal Register
- CBP-তে জমা দেওয়া রেকর্ডভুক্ত আমদানিকারকের তথ্যের নির্ভুলতা (91 FR 53627, 19 আগস্ট 2026), মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (CBP), Federal Register
- ইমপোর্ট অ্যালার্ট 16-129: নাইট্রোফিউরানের কারণে সামুদ্রিক খাদ্য আটক, মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)
- ইমপোর্ট অ্যালার্ট 99-42: ভারী ধাতুর দূষণের কারণে খাদ্য আটক, মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)
- বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি 2023, অধ্যায় 2: IEC, RCMC ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ (পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারকদের জন্য), বিদেশ বাণিজ্য মহাপরিচালকের দপ্তর (DGFT), ভারত সরকার
সূত্র যাচাইয়ের তারিখ